সিলেটমঙ্গলবার , ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. এক্সক্লুসিভ
  5. কৃষি ও প্রকৃতি
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলা
  8. গণমাধ্যম
  9. জবস
  10. জাতীয়
  11. জোকস
  12. টপ নিউজ
  13. তথ্যপ্রযুক্তি
  14. দেশে বাইরে
  15. ধর্ম

সুস্থ মনের বিকাশ পিছিয়ে কেন

পুর্বের আলো অনলাইন ডেস্ক
আপডেট : নভেম্বর ১৪, ২০২২
Link Copied!

সুস্থ মনের বিকাশ পিছিয়ে কেন,বর্তমানের ডিজিটাল যুগের সূচনা হয়েছে প্রযুক্তির হাত ধরে। এই চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে প্রযুক্তির ব্যবহার মুখ্য। বৈশ্বিক গ্রাম, অর্থাত্ বিশ্বে যোগাযোগের সহজলভ্যতা মানুষের প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারেরই ফল। ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রযুক্তির ব্যবহার সর্বদা মানুষকে সভ্য করেছে এবং উন্নতির পথে নিয়ে গেছে। Bangla news24

প্রথম প্রযুক্তির প্রতি মানুষের উত্সাহ শুরু হয় নিওলিথিক পর্ব (পাথরদণ্ডের আবিষ্কার) থেকে। এই নিওলিথিক পর্ব থেকেই মানুষ গ্রাম থেকে শহরে উত্তরণ শুরু করে। মেসোপটেমিয়ায় সুমেরীয়রা জটিল  খাল ও নর্দমার মাধ্যমে টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর পানিকে তাদের সেচকাজে ব্যবহার করত।

এরপর ধাপে ধাপে চাকার আবিষ্কার, পাথর দিয়ে রাস্তা তৈরি, চৌবাচ্চা স্থাপন, বৈদ্যুতিক মোটর থেকে শুরু করে বর্তমান বিশ্বে থাকা সব প্রযুক্তির উদ্ভাবন মানুষকে মূলত সভ্যতার পথে নিয়ে গেছে। কিন্তু এই সভ্যতা মানুষকে সভ্য করার সঙ্গে সামাজিক করার হাতিয়ারও ছিল। দুই প্রান্তের কারো সঙ্গে সহজে যোগাযোগের মূল ভিত্তি ছিল।

কিন্তু ক্রমে মানুষের কাছে সামাজিকতার প্রকৃত অর্থ বিস্তৃত হচ্ছে। যাযাবর তার ‘দৃষ্টিপাত’ গ্রন্থে লেখেন, ‘বিজ্ঞান দিয়েছে বেগ, কেড়ে নিয়েছে আবেগ’। আমাদের বিভিন্ন কলেজ-ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ সর্বদা তরুণদের কলকাকলিতে মুখরিত থাকে। ক্লাস শেষে আড্ডা, একাঙ্গে গান গাওয়া কিংবা চায়ের কাপে ঝড় তোলা—এই সবকিছু ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণকে চঞ্চলতায় পূর্ণ করে রেখে আসছে।

সুস্থ মনের বিকাশ পিছিয়ে কেন?

সুস্থ মনের বিকাশ পিছিয়ে কেন,একজন শিক্ষার্থীর জীবনের সবচেয়ে রঙিন অংশ এটি, যা সে সারা জীবন বয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমানে দেখা যায় যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে প্রত্যেকের হাতেই মোবাইল ফোন।

এর দৌরাত্ম্য সামাজিকতার প্রকৃত অর্থ পরিবর্তন করে দিয়েছে। পূর্বে যেকোনো সমাবেশ বা আড্ডায় সবাই নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা ও গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে নিজেকে শাণিত করত। কিন্তু বর্তমানে প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এ ধরনের আলোচনার মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। হচ্ছে না মনের পরিপূর্ণ বিকাশ।

কিছুদিন আগেও প্রযুক্তির এত অহরহ ব্যবহারের নজির দেখা যায়নি। পাঠ্য সমাজ বলে মানুষের কিছু সংগঠন ছিল বই পড়ার। জ্ঞান আহরণের প্রধান কেন্দ্র বই সব যুগের মানুষের জীবনের যোগসূত্ররূপে ব্যবহূত হয়ে আসছে। কিন্তু প্রযুক্তির অতিরিক্ত অন্তর্ভুক্তির কারণে মানুষ আজ বইবিমুখ হয়ে পড়ছে। আর তার মূল্যবান সময় ঢেলে দিচ্ছে প্রযুক্তির পেছনে এবং সামাজিকতার নামে অসামাজিক হয়ে উঠছে।

অনেকে আবার বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগের মধ্যে লিপ্ত হতে গিয়ে অনেকে জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে এবং পরবর্তী সময়ে তা বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনারও জন্ম দিচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস থেকে শুরু করে ব্যাংকের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। ভেঙে পড়ছে সামাজিক মূল্যবোধ। তবে ফেসবুক বন্ধ বা স্মার্ট ফোন বিক্রি বন্ধই যে এর সমাধান, তা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।

মনে রাখতে হবে, আলফ্রেড নোবেল ডিনামাইট আবিষ্কার করেছিলেন মানুষের কল্যাণের জন্য। কিন্তু মানুষ তা বেছে নিয়েছিল নিজেদের ধ্বংসের জন্য। প্রযুক্তির পরিমিত ব্যবহার এর কুফলগুলো থেকে মুক্তি দেবে। তাই সবাইকে পরিবেশ-পরিস্থিতির দিকে লক্ষ রেখে প্রযুক্তির সংযত ব্যবহার করতে হবে।

ব্যক্তির সামাজিকতা রক্ষার্থে এই দিকটি তর্কাতীত। আমাদের সামাজিক ব্যবস্থা অটুট রাখতে, সামাজিক মূল্যবোধ টিকিয়ে রাখতে দরকার সামাজিক সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন। আর এই সামাজিক সচেতনতার শুরুটা পরিবার থেকেই হওয়া উচিত। এছাড়া পরিবারের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত আজকের সম্ভাবনাময় এই তরুণদের নৈতিক মূল্যবোধ শিক্ষার প্রতি নজর দেওয়া। সর্বোপরি, প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মন তথা মানবিকতার বিকাশ জরুরি।

লেখক :শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

  • এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।